বাইবেল দিবস পালনের কর্মসূচি

বাইবেল দিবস কি ?

বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি ও কাথলিক মণ্ডলীর পালকীয় সেবা কার্য পরিষদ যৌথভাবে ১৯৯০ খ্রীষ্টাব্দে দেশব্যাপী বাইবেল দিবস পালন করে। শুরুতে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় রবিবার দিবসটি পালন করা হলেও তা পরবর্তীতে সকল মণ্ডলীর সুবিধার্থে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহব্যাপী যে কোন একদিন পালন করা হত। অধিকাংশ ডিনোমিনেশনের খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা দিবসটি পালনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা লাভ করেন। পরবর্তীতে নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের যে কোন দিনে বাইবেল দিবস পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি উদ্যোগ গ্রহণ করলে সকল মণ্ডলী এতে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রদান করে। এ বছরও সকল মণ্ডলীর কাছে একই আহ্বান জানাই।

কেন বাইবেল দিবস পালন ?

‘বাইবেল দিবস’ শুধুমাত্র দিন উদযাপন নয়। এর গুরুত্বকে তাৎপর্যপূর্ণ ও ঈশ্বরের অনুগ্রহের দিন হিসাবে মণ্ডলী যেন এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে সেজন্য বাইবেল সোসাইটি পোষ্টার, লিফলেট ও চিঠির মাধ্যমে মণ্ডলীকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করে।  দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল – দেশের খ্রীষ্টিয় জনগণ যেন পবিত্র বাইবেল তথা ঈশ্বরের বাক্য জানার জন্য আরো আকাক্সক্ষী হয়ে উঠতে পারে। পবিত্র বাইবেলের প্রতি মানুষের মনোযোগ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আগ্রহ ও উৎসাহকে আরো ত্বরান্বিত করার জন্য প্রতিটি ডিনোমিনেশনের সকল মণ্ডলীর সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি। এক্ষেত্রে ডিনোমিনেশনের প্রধানগণ বিশেষতঃ মান্যবর বিশপ, পালক প্রধান, পাল-পুরোহিত ও কার্যকারীসহ মণ্ডলীর সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি সার্থক হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্বাস করি।

  • এ দিনটি ইউরোপের মণ্ডলীগুলোতে এক সপ্তাহ ধরে উদ্যাপন করা হয়।
  • ল্যাটিন আমেরিকার মণ্ডলী সমূহে এক মাসব্যাপী পালন করা হয়।
  • প্রতিটি দেশেই সকল ডিনোমিনেশন যৌথভাবে এ দিবসটি পালন করে আসছে।

দিনটি পালনের উদ্দেশ্য কি ?

১। ঈশ্বরের কাছ থেকে তাঁর বাক্য লাভ করেছি বলে ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা।

২। ঈশ্বরের বাক্য যথাযথভাবে বরণ করে নেয়ার উদ্দেশ্যে তা পাঠ করা ও শোনার জন্য আরো মনোযোগী হওয়া।

৩। বাইবেলের প্রতি গভীর ভক্তি ও ভালবাসা অর্জন করা।

৪। বিশ্বাসীগণ দৈনন্দিন জীবনে যেন ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা পরিচালিত ও অনুপ্রাণিত হতে পারে।

কোথায় পালন করা হবে ?

প্রতিটি ডিনোমিনেশন (মণ্ডলী) প্রথমে তাদের কেন্দ্রে ও পরে প্রতিটি শাখা মণ্ডলীতে উদ্যাপন করতে পারে। দিবসটিকে উপলক্ষ করে পোষ্টার, লিফলেট ও অনুষ্ঠানসূচির আয়োজনসহ ডিনোমিনেশন প্রধানের শুভেচ্ছা বাণী ও দিক নির্দেশনা স্থানীয় মণ্ডলীকে আরো উৎসাহিত করবে।

কিভাবে পালন করা হবে ?

প্রতিটি মণ্ডলী তাদের নিজস্ব মাণ্ডলিক রীতিনীতিতে তা পালন করতে পারে। এটিকে একটি স্মরণীয় উৎসব হিসাবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানরূপে পালন করতে পারে। সকলের সুবিধার্থে একটি সাধারণ কাঠামো হতে পারে। যেমন:

১। বাইবেল দিবস পালনের পূর্ব প্রস্তুতি:

ক) ডিনোমিনেশন পর্যায়ে পরামর্শ সভা করা ও পরিকল্পনা গ্রহণ।

খ) কমিটি গঠন ও দায়িত্ব অর্পণ।

গ) পোষ্টার, লিফলেট, অনুষ্ঠানসূচিসহ চিঠি প্রস্তুত ও বিতরণ।

২। বাইবেল দিবস অনুষ্ঠানমালা : (প্রতিটি চার্চে নিজস্ব পদ্ধতিতে পালন হতে পারে)

ক) পবিত্র বাইবেল, মোমবাতি ও ফুলের মালা সহ শোভাযাত্রা করে উপাসনালয়ে প্রবেশ। (প্রবেশগীতি)

খ) পুলপিটে পবিত্র বাইবেল প্রতিস্থাপন ও ভক্তি সহকারে মাল্যদান (শ্রদ্ধাভাজন কেউ মাল্য দিতে পারেন)

গ) শুভেচ্ছা/স্বাগত বাণী – প্রধান পুরোহিত

ঘ) পবিত্র বাইবেল পাঠ ও ব্যাখ্যা – পুরোহিত (বাইবেল সোসাইটির কর্মকর্তাগণ বা বোর্ড সদস্যগণকেও আহ্বান করা যেতে পারে)।

ঙ) উদ্দেশ্য ও প্রার্থনা উৎসর্গ – সহকারী

চ) বিশেষ দান সংগ্রহ ও প্রার্থনা (গান থাকতে পারে)

ছ) প্রভুর প্রার্থনা (সমবেত)

জ) সমাপনী অনুষ্ঠান (উপাসনার শেষে পবিত্র বাইবেলের গল্প অবলম্বনে একটি গীতি আলেখ্য থাকতে পারে)

ঝ) শিশু কিশোরদের জন্য বাইবেল কুইজ প্রতিযোগিতা/বাইবেলের পদ মুখস্থ প্রতিযোগিতা/ধর্মীয় গান/খেলাধুলার আয়োজন

ঞ) ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপ্তি প্রার্থনা।

  • উক্ত অনুষ্ঠানমালাকে আরো সুন্দর আঙ্গিকে সাজিয়ে আন্তঃমাণ্ডলিক উপাসনারূপে জাতীয় পর্যায়ে বাইবেল দিবস উদযাপন করা যেতে পারে।
  • বাইবেল দিবসের বিশেষ সংগৃহীত দান বাইবেল সোসাইটিতে প্রেরণ করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করা হল।

বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি

৩৯০, নিউ ইস্কাটন রোড, মগবাজার, ঢাকা।

ফোন-৪৮৩১৪৪৫৯, ৪৮৩২০৭২৬, ০১৭২১৫৪৯৩৫৪